‘কৃষকের চোখের হাসি, মায়ের দোয়া, যুবকের স্বপ্ন ও বৃদ্ধের সন্তুষ্টিই হবে আমার সবচেয়ে বড় অর্জন’
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও হিসাব-নিকাশ। এরই মধ্যে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন উপজেলা বিএনপির সদস্য আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এম ফরজ উল্লাহ। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের কারণে স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর সমর্থকেরা।
সম্প্রতি দৌলতপুরের আল্লারদর্গায় আল্লারদর্গা যুব পরিষদ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এম ফরজ উল্লাহকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে আয়োজক ও উপস্থিত নেতাকর্মীরা তাঁর সামাজিক সম্পৃক্ততা, জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড এবং মানুষের পাশে থাকার মানসিকতার প্রশংসা করেন।
সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থিতা প্রসঙ্গে এম ফরজ উল্লাহ বলেন, “জনগণের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জনই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য। একজন কৃষকের চোখের হাসি, একজন মায়ের দোয়া, একজন যুবকের স্বপ্নপূরণ এবং একজন বৃদ্ধের সন্তুষ্টিই হবে আমার সবচেয়ে বড় অর্জন।”
তিনি বলেন, রাজনীতি শুধু ক্ষমতা অর্জনের মাধ্যম নয়; মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, নাগরিকসেবা নিশ্চিত এবং জনকল্যাণে কাজ করার দায়িত্বও রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে ইউনিয়নের উন্নয়ন, নাগরিকসেবা সহজীকরণ, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
মথুরাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে ইতোমধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা জমে উঠেছে। ভোটারদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে ইউনিয়নের যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধা। একই সঙ্গে একজন চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক সক্ষমতা, সততা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ককেও গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন ভোটাররা।
এম ফরজ উল্লাহর রাজনৈতিক বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে জনগণের শক্তি ও অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়টি। তিনি বলেন, “জনগণ জাগলে সমুদ্রের ঢেউও ভয় পায়, প্রাসাদও কেঁপে ওঠে।” তাঁর সমর্থকদের মতে, এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি গণতন্ত্র, জনসম্পৃক্ততা এবং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতি নিজের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের কথাই তুলে ধরেছেন।
তবে মথুরাপুর ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে শেষ পর্যন্ত কে আসবেন, তা নির্ধারিত হবে দলীয় সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক সমীকরণ এবং সর্বোপরি জনগণের ভোটে। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে এম ফরজ উল্লাহর সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—দলীয় সমর্থনের পাশাপাশি ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, স্থানীয় নির্বাচনে শুধু দলীয় পরিচয় নয়, ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক দক্ষতা, জনসম্পৃক্ততা এবং বাস্তবসম্মত উন্নয়ন পরিকল্পনাই ভোটারদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেই পরীক্ষায় এম ফরজ উল্লাহ কতটা সফল হন, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে তাঁর সমর্থকদের প্রত্যাশা, মানুষের পাশে থাকার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও জনসম্পৃক্ততাকে কাজে লাগিয়ে তিনি মথুরাপুর ইউনিয়নের নেতৃত্বে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে সক্ষম হবেন।
এ জাতীয় আরো খবর..