প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 28, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 15, 2026 ইং
বিজিবির বলিষ্ঠ অবস্থানে ব্যর্থ বিএসএফের পুশ-ইন চেষ্টা, চার দিন পর ১২ জনকে ফিরিয়ে নিল ভারত

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম
সীমান্তে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে কুষ্টিয়া সীমান্তে দৃঢ় অবস্থানের নজির স্থাপন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর কঠোর সতর্কতা, কৌশলী তৎপরতা ও অবিচল অবস্থানের মুখে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) অবশেষে তাদের পুশ-ইন প্রচেষ্টা থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছে। চার দিন ধরে সীমান্তে অচলাবস্থার পর ১২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে বিএসএফ।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুন ভোরে কুষ্টিয়া জেলার প্রাগপুর সীমান্তের ১৪৮/৩-এস পিলারসংলগ্ন এলাকায় প্রতিপক্ষ ১১ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের রানীনগর ক্যাম্প ১২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে—যাদের মধ্যে চারজন পুরুষ, চারজন নারী ও চারজন শিশু ছিল—বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। তবে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি ও সীমান্তে নিয়োজিত টহল দলের সতর্ক অবস্থানের কারণে ঘটনাটি দ্রুত শনাক্ত হয়।
তাৎক্ষণিকভাবে প্রাগপুর বিওপির বিজিবি সদস্যরা স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতায় ওই পুশ-ইন প্রচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করেন। ফলে বিএসএফের পরিকল্পনা ভেস্তে যায় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সীমান্তের শূন্য রেখা থেকে প্রায় ৩০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান নিতে বাধ্য হয়।
ঘটনার পরপরই কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে বিজিবি-বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফের একতরফা ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত নীতিবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানায় বিজিবি। একই সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আর না ঘটানোর জন্য কঠোর অবস্থান তুলে ধরা হয়।
চার দিন ধরে সীমান্তে অবস্থানরত ওই ব্যক্তিদের বিষয়ে বিজিবি টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান গ্রহণ করে। বিজিবির এই অনড় অবস্থানের মুখে সোমবার (১৫ জুন) বিএসএফ সীমান্তের শূন্য রেখায় একটি স্পট মিটিংয়ের আহ্বান জানায়।
বৈঠকে বিএসএফের ডেপুটি কমান্ডেন্ট দাবি করেন, তাদের কাঁটাতারের গেট সব সময় বন্ধ থাকে এবং তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়। জবাবে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক দৃঢ়ভাবে বলেন, “তারা কোন গেট ব্যবহার করে এসেছে সেটি মুখ্য বিষয় নয়; মূল বিষয় হলো তারা ভারত থেকে এসেছে এবং এখনও ভারতীয় ভূখণ্ডেই অবস্থান করছে।”
বিজিবির এই যৌক্তিক ও আইনি অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে বিএসএফ শেষ পর্যন্ত উল্লিখিত ১২ জনকে নিজেদের কাঁটাতারের বেড়ার অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়। সোমবার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে উভয় বাহিনীর কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তাদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
পরে বিজিবি ও বিএসএফ উভয় পক্ষ নিজ নিজ সীমান্ত এলাকায় ফিরে যায়। বর্তমানে প্রাগপুর সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং বিজিবির নিয়মিত টহল কার্যক্রম জোরদারভাবে অব্যাহত রয়েছে।
সীমান্তে জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবির এই দৃঢ় অবস্থান স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সীমান্ত নিরাপত্তা ও দেশের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে বিজিবির এমন পেশাদার ও দায়িত্বশীল ভূমিকা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ এস কে টিভি বিডি