প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 28, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 16, 2026 ইং
মানবতার সেবায় নিবেদিত তসলিমা শিল্পী: শিশু, নারী ও সংস্কৃতির উন্নয়নে এক অনন্য আলোকবর্তিকা

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম
মানবসেবাকে জীবনের ব্রত হিসেবে ধারণ করে দীর্ঘদিন ধরে সমাজের অসহায়, বঞ্চিত শিশু ও নারীদের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন বনলতা মহিলা ও শিশু উন্নয়ন সংস্থা, কুষ্টিয়া-এর নির্বাহী পরিচালক তসলিমা শিল্পী। চিকিৎসা, সংস্কৃতি, নারী উন্নয়ন এবং সামাজিক সচেতনতা—সব ক্ষেত্রেই তাঁর আন্তরিক উদ্যোগ আজ কুষ্টিয়ার মানুষের কাছে প্রশংসিত।
পেশায় একজন অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক তসলিমা শিল্পী। একই সঙ্গে তিনি গার্ডিয়ান লাইফ-এর ডেভেলপমেন্ট সেক্টরের ডেপুটি রিজিওনাল ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পেশাগত ব্যস্ততার পাশাপাশি তিনি মানবকল্যাণে নিবেদিত একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পরিচালনার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে কাজ করে যাচ্ছেন।
তাঁর প্রতিষ্ঠিত বনলতা মহিলা ও শিশু উন্নয়ন সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সংগঠনের উদ্যোগে নিয়মিত বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়, যেখানে দরিদ্র ও অসহায় শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
শুধু স্বাস্থ্যসেবাই নয়, শিশুদের সৃজনশীল বিকাশেও রয়েছে তাঁর বিশেষ মনোযোগ। নাট্যব্যক্তিত্ব হিসেবে তসলিমা শিল্পী শিশুদের নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক নাটক মঞ্চস্থ করেন। এসব নাটকের মাধ্যমে শিশুদের নৈতিক শিক্ষা, দেশপ্রেম, সামাজিক মূল্যবোধ, আত্মবিশ্বাস এবং নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল চর্চাই একটি সুস্থ, সচেতন ও মানবিক প্রজন্ম গঠনের অন্যতম ভিত্তি।
নারীর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতেও তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে তাদের নিজস্ব আয়ের পথ তৈরি করে দিচ্ছেন। তাঁর এসব কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এবং কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন।
সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৩ সালে তিনি ‘রোকেয়া পদক শ্রেষ্ঠ জয়িতা’ সম্মাননায় ভূষিত হন। এই অর্জন তাঁর দীর্ঘদিনের মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তসলিমা শিল্পী বলেন, “আমার মূল লক্ষ্য মানবতার সেবা করা এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানো। অসহায় শিশু ও নারীদের মুখে হাসি ফোটাতে পারাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। সমাজের সবাই যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে মানবকল্যাণে এগিয়ে আসে, তবে একটি সুন্দর, বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।”
সমাজসেবায় তাঁর নিরবচ্ছিন্ন কর্মপ্রচেষ্টা, মানবিক মূল্যবোধ এবং সৃজনশীল উদ্যোগ ইতোমধ্যে কুষ্টিয়ায় এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। মানবতার কল্যাণে তাঁর এই পথচলা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ এস কে টিভি বিডি